বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১০

অশরীরী জার্নাল

[বুড়ি সোনা,এই লেখাটা তোর জন্য। শুধুই তোর জন্য। আমাদের সবার মাঝে সবার আগে ত্রিশ ছুঁয়ে ফেলা তোকে অনেক অনেক আদর আর চুমু ছাড়া দেবার মতো কিছুই আমার নেই যে! তোর "হয়েছে, তো কি হয়েছে" অথবা "বয়েই গেলো" জাতীয় জীবনবোধ এক সময় খুব প্রতিহত করার চেষ্টা করতাম,এখন বুঝি :ওটা আমারই সীমাবদ্ধতা ছিলো। নতমস্তকে এবং লজ্জিত মুখে (হ্যাঁ,তোর ভাষায় "রক্তাভা নিয়েই")স্বীকার করছি, মাঝে মাঝে "বয়েই গ্যালো" বলতে হয়! তুই পেরেছিস। দিদির বাড়ির ওই চতুষ্পদীকে সপাটে যে কথার চড় কষালি তাতে ত্রিশের অনেক নীচেও অনেকেই কুপোকাত!এগিয়ে যা,জোর কদমে!]







===============================


পঁচিশ বছর অবধি একটিও নারী শরীর ছোঁওনি বলে


তোমার যে আত্মশ্লাঘা


তাকে স্রেফ বেকুবি না নির্বোধের আস্ফালন কোন্ টা বলবো এই নিয়ে যখন ভেবে জেরবার হচ্ছি


ঠিক তখনি


ত্রিশ বছরে আমার কতগুলো শরীর ঘাঁটা হয়েছে


সেই পরিসংখ্যানে উৎসাহী লোকের সংখ্যা


পার্টিতে দাঁড়িয়ে গেলো দ্বিগুণ!


জানি,ভালো মতই জানি -


কেচ্ছা,তা নুন-লঙ্কা -তেল -মশলাদারই হোক


কি স্রেফ একটু জল দিয়ে সেদ্ধ,


কেচ্ছাই।


বিশেষতঃ নারী হয়ে শরীর নিয়ে খোলাখুলি কথা


উপভোগের বিস্তারিত


অথবা যৌন নিষেধগ্রস্ত নই যে আদৌ


সেই আত্মোপলব্ধি


স্বস্তি এবং শান্তি দিচ্ছিলো না কাউকেই।


এক গা গয়না পরা মধ্যবয়সী শাড়ী গোছানো রমণী


কিম্বা খালাম্মা,যার জরায়ু অপসারণের পর


"নারীত্ব" হারানো নিয়ে খসখসে গলার স্বরে তিক্ততা ছাড়া আর বেশি কিছু বের হয়না


সাতেপাঁচে না থাকা ভদ্র যুবক,যে নারী পুরুষ কচকচি না শুনে


টিভির সাউন্ড বাড়াতে একটু উসখুস


অথবা নুরুর রহমান- নিজের স্ত্রী ছাড়া অন্য সব মহিলার


মুখ বাদে সরাসরি বুকের দিকে তাকিয়ে যিনি কথা বলতে পছন্দ করেন


সকলেই থমকে গেলো।

নির্ দ্বিধায় বলি,হ্যাঁ,ত্রিশ বচ্ছরে ত্রিশটির ও বেশি পুরুষ ছুঁয়েছি আমি।


কি আসে যায় তাতে?


আমরা কে কতজনের সঙ্গে "শুয়েছি" অথবা "শুইনি"


[যদিও এই শব্দাবলী গরম লোহা বা সীসার মতই অনেকের কানে]


তা দিয়ে আদৌ আমাদের সংজ্ঞায়ন হয় কি?


তা যদি হতো


তাহলে কেন বলুন,


দু'বেলা নমাজ পড়ে কপালে কালো টিপ সহ


গোড়ালির ওপর লুঙি ওঁচানো আখলাস সাহেব


ছোট্ট কাজের ছেলেকে দিয়ে স্পর্শ করান নিজের অণ্ডকোষ


নিজের "ভালোমেয়ে"র সুনাম রাখতেই হবে এমন মরণপণ করে প্রতিরাতে উপোষী শরীরে


নপুংসক স্বামীর গায়ে হাত বোলায় ফুপিমণি


অথবা চল্লিশ পরুনো ওই রমণী যে প্রতি দুপুরে চুপিচুপি


জানলার ফাঁক দিয়ে প্রতিবেশী তরুণের নগ্ন জলকেলি


দ্যাখে বিস্ফারিত নয়নে


এদের সবাই কে এক কাতারে রেখে


সব আগল খুলে দিয়ে


নিজের শরীর আর মনকে একবার আদুল করতে বলুন দেখি!


দেখি একবার আমদের নেকুপুষুসুন্টুনিমুন্টুনি করা


টেবিলের পায়ায় পাজামা পরানো ভিক্টোরিয়ান শালীনতা


কোথায় থাকে?


আমাকে হরে দরে বেশ্যা বলে গাল দেবার আগে


বেশ্যা বাড়ি গমনোন্মুখ লোভার্ত সব পুরুষ


আর শরীর শরীর ছোঁকছোঁকানিতে


অবরুদ্ধ আর অবদমিত ভার্যা ও ভগিণীগণ


পৃথিবীটা সাদা আর কালো নয় - এটা মনে রাখাটা খুব জরুরী।


নীলচে ছাই ধূসর গেরুয়া পাঁশুটে হলদেটে মাখনরঙা


আরও কত শত স্তর আছে রঙের, বোধের


আপনাদের নিষেধ মানা দরজা বন্ধ করা


সপাট জোরে কপাট আটকানো শরীর আর মনেরও।


আমি না হয় হলামই একটু টলোমলো


যতগুলো ইচ্ছে নাহয় ছুঁলামই শরীর


তাতে কার কি এলো গেলো?


পিওর মনোগ্যামিস্ট ওই ভদ্রলোকের যিনি ল্যাপটপ খুলে


দশটা বিজ্ঞান গবেষণা গুলে খেয়ে


আমার চৌদ্দপুরুষ উদ্ধার করতে পারেন?


আর দেখিয়ে দিতে পারেন আসলে আমার "বিকৃতি" জেনেটিক?


দুরছাই এই প্রজন্মান্তরের গবেষণা


দুয়ো দিচ্ছি তোর একগামিতাকেও


আরও বড় ধিক বছরে শতবার বেশ্যাবাড়ি গমন করেও


বহুগামী পুরুষের পিতৃত্বের অহঙ্কার


আর হাতে তুড়ি বাজিয়ে "বাজারের মেয়ের" বাজারমুখিতা যাচাইয়ের

 ভালোবাসা নিয়ে ,না ,আমি কথা বলবো না আপনাদের সাথে -



ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ


আপনার দুরন্ত স্মার্ট চুরুটের টান অথবা আধা ইংরেজ বুলি


না পেরেছে আপনার স্ত্রীর শরীর থেকে কালো নেটের সিল্কের আড়ালে ছ্যাঁকার দাগ গুলো ঢাকতে


পারেনি আপনার সদ্য কৈশোরোত্তীর্ণ পুত্রের


ইতঃস্তত হস্তমৈথুনের বালখিল্য লুকোতেও।



সদ্যবিবাহিতা আগুনরঙা আঁচে রূপসী আপনার কন্যাটিও মাসীমণি,


জীবনের আল ধরে হাঁটেনি এ অব্দি


তাই কামাতুরা কবুতরের ধুকপুক বুকে নিয়েই


স্বামীগর্বে মাথায় চওড়া সিঁদুরে ডগমগ খুশি সে।


অপালামাসী, গান্ধারীর মতো ইচ্ছা অন্ধত্ব ও তো পারেনি


আপনার আর মেসোর অসম্ভব শীতল জীবনে


দু'চারটে উষ্ণ জলের টুপটাপ ফোঁটা দিতে।


তাহলে কেন,কেন বলুন - সকল হিংসা,সব ঘৃণা


আর বিদ্বেষের তীর আমার দিকেই তাক্?


আমি ত্রিশ নামক মাইলস্টোন আজ স্পর্শ করলাম বলে?


কেন অন্য আরো দশজনের মতো জীবনের একঘেঁয়েমিতে অভ্যস্ত নই,তাই?


নাকি ওই বয়েই গ্যালো - বেশ করেছি শব্দাবলীই আপনারা হজম করতে পারেন না,কোন্ টা?

পাগলের মতো, উন্মাদ ভালো আমিও বেসেছি

ভেঙে যখন চুরমার হয়েছি তখন

সমবেত সুধীমন্ডলী

এই আপনাদের মুখনিঃসৃত সমবেত চুক্চুক্,

উহু আহা বড় দুখী মেয়ে, আহা ওকে আগলে রেখো


জীবন শেষ হলো


ইত্যকার নান বাক্যবাণে আমাকে খামচে,জাপটে, থেঁতলে


কতভাবেই না পিষতে চেয়েছেন আপনারা।


তাহলে আজ?


আজ তো আপনাদের খুশি হবার কথা


আপনাদেরই সেই অবলা বালিকা


মুখে দুধের গন্ধ আর শরীরে সদ্য ফুটে ওঠা স্তনের কুঁড়ি


এই দুইয়ের স্তর বহু আগেই পেরিয়ে এসে

মনে না হোক শরীরে খুশি অন্ততঃ?

 তাহলে কি এই সত্যি অর্ফিয়ুসের বাজনার মতো



কারো স্পর্শে যদি উচাটন হয় শরীর


মন হলে ক্ষতি নেই- মনের বেসাতি খুব


মূল্যহীন বলছেন, আপামর শোতৃগণ?


মন নিয়ে যতটা আহা উহু করা যায়


শরীর নিয়ে ততটা নয়, শরীর নিয়ে কেবল


কেচ্ছাই জমে ভালো -


হাজার খানেক ওয়াটের বাল্বের আলোতেও


এ আঁধার দূর করি কি করে?


অবশেষে বলি:


ব্রহ্মান্ডের সবচেয়ে বড় ক্ষত তবে হৃদয়ে নয় , শুধুই শরীরে?


হৃদয় মূল্যহীন শরীর তামাম


শুধরোবে এই বিভাজন কেউ -


আদৌ কি পরিপাটি হয় কোনো ক্লেদ


ঋণ শুধু শরীরেরই, মন ঋণহীন??






২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮। রাত: ১২টা ৩৬ মিঃ

কী দেখছি :ক্যালিফোর্নিকেশন- ভালো থেকো হ্যাংক মুডি


ট্যাগে ১৫+লাগানো দেখে কিছুটা বিস্মিত ছিলাম, তারপরও ক্যালিফোর্নিকেশন বলে কথা। চ্যানেল টেনে প্রথম যখন এই সিরিজের ছিটেফোঁটা দেখা শুরু করি, তখন বিজ্ঞাপনের আধিক্যে বেশ খানিকটা আগ্রহ হারিয়েছিলাম সন্দেহ নেই। কেমন কেমন করে খুব প্রিয় এক বন্ধু ততোধিক প্রিয় এক মুহুর্তে খুব সুন্দর একটা কালচে সোনালী মোড়ক কোলের ওপর ফেলে দিতেই এক রমণীর রমণীয় পা আর লাল স্টিলেটো দেখে তৎক্ষণাৎ ঠিক করা, দেখতেই হবে, এক্ষুণি। আরও বেশি আগ্রহ জাগানিয়া ছিলো ডেভিড ডুকোভনির ব্যায়ামহীন স্বল্পমেদ কিন্তু অনধিক চর্চাতেও খেই হারিয়ে না ফেলা শরীরের উঁকিঝুঁকি।

টুইটারিয় ভাষায় বললে ক্যালিফোর্নিকেশন হচ্ছে এক উড়নচণ্ডী বোহেমিয়ান লেখকের ঘর গেরস্থির আকুল বাসনায় ছুটে বেড়ানো। এই বাক্যটার পরস্পরবিরোধিতার মতই আমাদের(পড়ুন পশ্চিমা নগর সভ্যতায় কলমজীবী বা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকারী গোষ্ঠীর) জীবনের মধ্যকার অনেকগুলো ফাঁকফোঁকর দেখিয়ে দেওয়া, যৌন-অযৌন-পারস্পারিক বোঝা না বোঝা, শহুরে মধ্যবিত্ত নারীর উভকামী জীবনের স্বাদ চেখে দেখবার কৌতূহল বা মেট্রোসেক্সুয়াল বাবার বেড়ে ওঠা কিশোরী কন্যার কথা অনায়াসেই বলে ছবিটা। টম কাপিনোস ধমাধম ধাক্কা লাগায় কতকগুলো প্রথমেই, হুটহাট সদর গলিয়ে অন্দরে ঢুকে পড়া যৌনতা বা জীবনের অপরিসীম ভারী দিক গুলোর দুর্দান্ত টুইস্টেড হিউমার এর আগে সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটিতেও দেখেছি। সেই সিরিয়ালও প্রিয় ছিল অন্যরকম একটা জীবনবোধ চোখের সামনে তুলে ধরবার জন্য।


যেটা ক্যালিফোর্নিকেশনে আরো ছুঁয়ে যায় সেটা এর সমান্তরালে নয়, অন্তরালে কোথাও বয়ে যাওয়া একটা মিষ্টি প্রেমের গল্প। একদম স্কুল পালিয়ে দেখা সেই সিনেমাগুলোর মত, নায়ক নায়িকার একটু চোখের দেখা বা অল্প একটু কথা বিনিময়ই যেখানে শিহরণ জাগানিয়া। আমার কাছে এর প্রথম আকর্ষণ ওই ধরা সে যে দেয় নাই দেয় নাই প্রেমটুকুই। তারপরও নিপ্-টাকের মত কখনো অবাস্তব বা উচ্চকিত নয় চরিত্রগুলো, বরং বারো পরিয়ে তেরোয় পড়া বেকা নামের মেয়েটাকে কখনও নিজের মতো মনে হয়, কখনওবা গিলমোর গার্লসের মেয়েটার মতো। দ্বিতীয় আকর্ষণ, আরো ভালো করে বললে, অনেকের জন্যই মূল আকর্ষণ এই লেখক চরিত্রটা, হ্যাংক মুডি। কখনও মাসুদ রানার মত মৃত্যুর মুখোমুখি বসে তীব্র যৌনতায় ডুবে যাওয়া, খেই হারিয়ে ফেলা, আবারও গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দিকদিগন্তে খুঁজে বেড়িয়ে হারিয়ে যাওয়া লেখালেখি ফিরিয়ে আনা, তারপর ফের অবসাদ আর লিখতে না পারার বেদনায় ডুবে যাওয়া হালে পানি না পাওয়া একটা ডুবন্ত মানুষ।



অনেকগুলো শেড আছে লোকটার চরিত্রের, যেটা আবারও মাসুদ রানার ক্লিশে ট্যাগলাইন দিয়েই বলি: টানে সবাইকে, কিন্তু বাঁধনে জড়ায়না। যদিও মাসুদ রানার সাথে তার আপাতঃ মিলকরণের এখানেই সমাপ্তি, কারণ ঠিকভাবে দেখলে ওই মাঝে মাঝে দাড়ি না কাটা আর সবসময়ই পলিটিক্যালি ইনকারেক্ট কথা বলা লোকটা প্রচুর ঘাত প্রতিঘাতের পরও বাস্তবের কঠিন মাটিতেই দাঁড়িয়ে থাকে। পায়ের নিচ থেকে জমি সরলে ধীরে ধীরে মাথায় যে ফাঁকা অনুভূতিটা হয়, তার চাক্ষুষ সাক্ষী এই মানুষটা, হাজার রকমের খুঁত, নারীপ্রীতি আর আসঙ্গের লিপ্সা হরহামেশা বিরক্তি জাগিয়ে তোলে সবারই, বউয়ের, বাচ্চার, বন্ধুদের, দর্শক হিসেবে আমাদেরও। আপাদমস্তক মেল শভেনিজম দিয়ে গড়া মনে হবে ওকে, প্রথমে। কিন্তু আজকের এই বেবন্ধু জমানায় একসময়ের ঝলকানি লাগা হঠাৎ বিখ্যাত এই লোকটা যে একজন লেখক, পৃথিবীতে তার আসা শব্দ দিয়ে শরীর জয় করতে, শরীর দিয়ে শব্দকে নয়, ওই জিনিসটা মাঝে মাঝে ভুলে বিবর্ণ একটা বিকর্ষণে চলে যায় মুডি। তার প্রাক্তন প্রেমিকা, হলেও-হতে-পারতো স্ত্রীর ভূমিকায় নাতাশা ম্যাকেলহোন আমার এমনিতেই প্রিয়, স্ক্রীনে এলে আদ্ধেকটা সময়ই হাঁ করে তাকিয়ে থাকি - সেই হাভাতেপনা উপেক্ষা করলেও বলতে হয় মহিলা চরিত্রটা ভালোই ফুটিয়ে তুলেছেন, অন্ততঃ এ পর্যন্ত।



ফার্স্ট সিজন দেখে অবধি একটা সুখী সুখী ফুরফুরে ভাবে আছি, ভালোলাগা জিনিস নিয়ে বদনাম করতে একটুও ভালো লাগেনা আমার। সমালোচনা, খুঁত ধরার ছিদ্রাণ্বেষী চেষ্টা তাই দূর অস্ত। তারপরেও ক্যালিফোর্নিকেশন নিয়ে বদনামের অন্ত নেই। অতিরিক্ত যৌনতা, সম্পর্কের গৎবাঁধা ফর্মুলাকে চ্যালেঞ্জ, "অ"নৈতিক(!) জীবনযাপন আরও কত কী! বাঙালি সমাজের ধারেকাছেও যাবেনা এ ছবি, এর ম্যাচ্যুরিটি লেভেল ভিন্ন সে তো বলাই বাহুল্য। দেখবার চোখও ভিন্ন। আমাদের গড়পড়তা মধ্যবিত্তীয় মূল্যবোধ দূরে থাক, মোটাদাগে বললে তথাকথিত "পশ্চিমা" মূল্যবোধও ঠোকর খায় বারবার এই ছবিটার কছে। আমার একটা "বিজলিবাতির ঝলকানি" মেয়ের সাথে চূড়ান্ত রকমের ভালো শরীরী সুখ হলো, তাপ্পর জানতে পারলাম মেয়ের বয়স ষোল - উই সব্বোনাশ! আরো জানলাম এই মেয়ে আমার হলেও-হতে- পারত- বউয়ের হবু সৎমেয়ে। সাড়ে সর্বনাশ! আবার মেয়েটি এক বিষম অ্যাটেনশন সিকিং ডিজঅর্ডারে ভোগা টিপিক্যাল টিনেজার। সারে সারে সর্বনাশ!!! এতগুলো জিনিস পরপর হলে আর কারো জীবনে ঘটলে(আমরা নিরানব্বই শতাংশ ধরেই নিই আমদের জীবনে ঘটবে না বা ঘটার পথ আমরা রুদ্ধ করেই রাখবো, সেটা ভিন্ন গল্প), যে কেউ পুরো নয় আধপাগলা তো হবেই। ওই আধপাগলা মুডির সাথে মোলাকাতের বিষম আগ্রহ জাগানিয়া জায়গাটাই ক্যালিফোর্নিকেশনের মূল নির্যাস বলে মালুম হলো আমার।



আরো একটা কথা হলো এখানে জীবন নিয়ে মধ্যপন্থার কোনো জায়গা দেওয়া হয়নি একেবারেই। হ্যাংক মুডি মানুষটাকে দেখে আমি প্রেমে পড়িনি একদমই,(শঙ্কামিশ্রিত বিস্ময় বললে অনুভূতিটা আরো ভালো বোঝায়), কিন্তু ওর লাগামছাড়া যা কিছু করতে পারার স্বাধীনতা দেখে বারবারই লাগামছাড়া হবার একটা ইচ্ছে মনের মধ্যে চাগাড় দিয়ে উঠছিলো। সেটা ওর বউয়ের সাথে খুনসুটিতেই হোক কি মেয়ের সাথে কথা কি চূড়ান্ত শারীরিক উন্মাদনার শীর্ষসুখে বসে ষোল বছরের মেয়ের গদাম ঘুঁষি -- তারপর আবার যখন ওর অবনমন, ভিন্নতার,বৈচিত্র্যের ভীষণ একটা টালমাটাল অবস্থায় সমবেদনায় চুকচুক করছি, খানিকটা স্যাডিস্ট ধরণের মজাও পাচ্ছি দর্শক হিসেবে, যা হয়েছে বেশ হয়েছে, এইরকম করবি তো এইই তো হবে বলে সর্বসাধারণের আত্মশ্লাঘায় আমি নিজেও বুঁদ হচ্ছি, সেই সময়েই কেন যেন হঠাৎ করে ওর ভালোবাসা, প্রেম জীবন আর লেখার প্রতি আকুল আকাঙ্খা একটা সহানুভূতি জাগিয়ে তোলে। সিমপ্যাথি নয় এই প্রথম ------কেমন এমপ্যাথি জাগানিয়া মুডিকে দেখে "মনকে চোখ ঠেরে কি লাভ" - নিজেকে এই কথা বলি।



খারাপ বলা যতটা সহজ, খারাপের জন্য গালি দেওয়া বা নৈতিকতার সীমারেখা টানা যতটা স্বঃস্তিকর, ততটাই অস্বঃস্তিকর হয় চরিত্রের খুঁতগুলোর বিনাশী ক্ষমতা জেনেও তার প্রতি মানুষ হিসেবে সহানুভূতি জেগে ওঠাটা। একটা জায়গা আছে, ১ম সিজনের শেষদিকের একটা পর্বে, মুডি আর তার এজেন্ট চার্লি তাদের জীবনের সম্পর্কগুলো নিয়ে কথা বলছিলো, খুব খেদের সঙ্গে সাথে মুডি বলে, ইট'স রিয়েলি রেয়ার টু ফাইন্ড সামওয়ান হু লাভস ইউ ফর হু ইউ আর অ্যান্ড,উই বোথ হ্যাড উইমেন ইন আওয়ার লাইভস হু লাভড আস ফর হু উই আর ডেসপাইট আওয়ার ফ্ল'জ, অ্যান্ড উই বোথ কুডন"ট কীপ দেম। দীর্ঘশ্বাস আর হতাশা মদের শেষ চুমুকের সাথে মিশে এক ঝটকায় মরালিটির বোধ টোধ উড়িয়ে দিয়ে নিজেকে কেমন নাঙা করে দিয়ে যায়,মনে হয় হায়, সত্যিই তো, জীবনের ভালো লাগার,ভালোবাসার সম্পর্কগুলোর মধ্যে আমরা কেবলই একজনকে অন্যজনের মতো করতে চাই, অন্যের জুতোয় পা গলানোর থেকে নিজের জুতোই চেপেচুপে ওর পায়ে ঢুকোতে চাই, নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটা দুর্দমনীয় ইচ্ছেতে। ক'টা সম্পর্ক হয় যেখানে প্রাণ খুলে গলা ছেড়ে আমার "আমিত্ব" নিয়ে আমরা সুখী আর সম্পূর্ণ? এই পাওয়াটুকুই যদি এ লেখকের, এ পুরুষের সবচাইতে বড় পাওয়া হয় এ অবধি, তাহলে থাক্ না, বেচারীর ওটুকুই স্মৃতি। হোক্ না আরেকটু টালমাটাল, লোকটা সুখ পাক, এত ভুল করেও "ঠিক" না হোক, "ভালো"(যদিও সিরিয়ালটা দেখলে হয়তো বুঝবেন ভালো টার্মটা তখন রিলেটিভ হয়ে গেছে) কিছু হোক ওর জীবনে।



তাই আবার যখন ও লেখা ফিরে পায়, বাচ্চাদের মতো খুশিতে হাততালি দিতে ইচ্ছে করে, এমনকি সদ্য ঋতুদর্শী মেয়ে ওর সাথে থাকতে এলেও শহুরে সিঙ্গল প্যারেন্টের অগোছালো জীবনের মাঝে পিতৃত্বের ঢুকে পড়া দেখতেও কেমন একটা মনকেমন করা ভালো লাগা ঘিরে ধরে-- উপমহাদেশীয় দর্শক হিসেবে আমি ওই পয়সা উসুলদের দলেই ঢুকে যাই যখন শেষ দৃশ্যটা দেখি, মানে প্রথম সিজনের শেষ দৃশ্যটা। বলিউডি দুনিয়ার বেতাজ বাদশাহ শাহরুখ খান নাকি একবার বলেছিলেন ভারতীয়(পড়ুন উপমহাদেশীয়) দর্শক সিনেমা হলে গিয়ে নায়ক মারা যাবার দৃশ্য কখনই দেখতে চায়না, নায়ক মরলে ছবি অবধারিত ফ্লপ। ভুখানাঙা স্লামডগ মিলিওনিয়েরারের রেশ লাগা হাই মেলোড্রামার ঘোর আমাকে বলতে চায়, সাধেই কি এটা হোলো, নইলে ছবি হতো অবধারিত ফ্লপ --- শৈল্পিক গুণ বিচারের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে পলিটিক্যালি ইনকারেক্ট এবং হাইলি ফ্ল'ড আমি এবং আমরা দর্শককুল ফুরফুরে একটা মেজাজ নিয়ে মিষ্টি করে হাসি, যারা দ্বিতীয় সিজন দেখে ফেলেছেন তাদের তর্জনী উঁচোনো আঙুলগুলোকে আপাততঃ "রাখেন তো!" বলার মাধ্যমে।

শূন্য এ বুকে পাখি মোর আয়..ফিরে আয়..

ফিরে আয়, দয়া কর, ফিরে আয় সোনা .....



লেবেঞ্চুস কাঠি লজেন্সেও হবেনা তোর বুঝতে পারছি


আচ্ছা সবচেয়ে দামি বেলজিয়ান ক্রীমে মোড়া চকোলটটাই দেবো তোকে, যেটা মুখের ভেতর গলে যাবে তোর .. তুই আমার কাছে একবার ধরা দে, আমি যেরকম করে রিশ এর কোলে গুটিশুটি মেরে শুয়ে থাকি নরম আদুরে বেড়াল ছানার মত। আর রিশ যেভাবে আদর করে আমাকে সারা গায়ে হাতড়ে, হাঁটুর নীচে কাফ মাসলটার ঠিক যেখানে ব্যথা সেখানে আ-স্তে করে চাপ দিয়ে -- উহ্ -- আমি একদম গলে যাই - আমি তোকে ঠিক ওইরকম করে আদর করবো সোনা, ঠিক ও ই রকম করে সারা গায়ে হাত বুলিয়ে দেবো।


আমার হলদে মলাটের শক্ত কাগজের খাতা তোর পছন্দ হয়নি, বেশ তো আজই অফিস থেকে এনেছি সুন্দর হালকা নীল মলাটের মাঝে বাঁধাই অনিয়ন স্কিন পেপারের নোটবুক ... কি- ই সুন্দর, দেখলে তুই খুশিতে লাফিয়ে উঠবি! তুই একটু কাছে আয়। আমি সবচেয়ে দামি কলমের মোটা কালো নিব দিয়ে গভীর করে লিখবো তোর কথা, গড়বো তোকে ...... কালো অক্ষর গুলো মুক্তোদানার মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেবো নীল মেঘের দলের মাঝে, তুই একটা একটা করে পাঁপড়ি মেলার মতো আমার হাতের ভেতর পদ্মকোরক হয়ে ফুটবি, হ্যাঁ - ঠিক ও ই স্থলপদ্মের মতো, বহু বহু বছর আগে ছোট্ট মফঃস্বল শহরের বাড়িটায় শুধু আমার জন্য যে পুকুরটা ছিলো, যার পাড় আঁকড়ে আমার প্রথম সাঁতার কাটতে শেখা, আর যেটার জলের মাথায় প্রথম দেখেছিলাম সাপের ফণা উঁচোনো...... সেই বাড়িটার দেয়াল ঘেঁষে নিষিদ্ধ জংলার ধারে ওই গরবিনী পদ্মের সারি, কি এক অমোঘ আকর্ষণ ছিলো আমার - তোকে ঠিক ও ই রকম, সবাই ঘুমিয়ে যাওয়া ঝিম্ ধরানো দুপুর বেলায় বুনো ঝোপের ভেতরের জংলা গন্ধে স্থলপদ্মের সারির মধ্যে চাই আমি......






সোনা আমি জানি তুই সবার জন্য নোস্, আমি জানি তোর আত্মাভিমান, জানি আমার ওপর তোর অসহ্য রাগ ক্রোধ বেদনার কথা - আমি জানি তুই কেমন বেঁকেচুরে গেছিস্, প্রতিবার গভীর রাতে কাজ থেকে ফিরে আমি যতবার কাগজের ওপর খসখস করে লিখে গেছি নির্দয়ভাবে, তুই অভিমানে চেয়ে ছিলি আমার দিকে, তারপর নিজের ওপর অন্ধ ক্রোধে ছুঁড়ে ফেলেছি পাতাগুলো, টুকরো টুকরো করে উড়িয়ে দিয়েছি আমর ছোট্ট ব্যালনকিটা থেকে। কখনো বা ফিশ বোলের মাছেদের সঙ্গী হয়েছিস তুই কাগজের নৌকো ভাসিয়ে।






স্বার্থপর বেনিয়ার দু'পয়সা লোভের মত নির্লজ্জ আমি গভীর রাতে অচেতন ঘুম থেকে রিশ্ কে ডেকে তুলে ঠোঁটে মুখে গায়ে ওর আদর মাখতে মাখতে শরীরের উন্মাদনায় হারিয়ে যেতে যেতে, নাহ্ একবারও ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি তো তোর কথা! যখন আমার পিঠের ভেতর হাজারটা পিঁপড়ের সারির মত রিশের কুশলী আঙুলগুলো খেলা করে যাচ্ছিলো, যখন ধোঁয়া ওঠা কফির কাপে চুমুক দিয়ে খবরের কাগজ আর বিজাতীয় ভাষার খবরে আয়েসী সকাল আমার, রাতের খাবারে ব্যারামুন্ডি নাকি স্যামন ফিলেট বেবি স্পিন্যাচ নাকি পেনফোল্ডস এর ক্লাব পোর্ট - এ সমস্ত অর্থহীন জিনিসেও কি ভীষণ রকম সময় নষ্ট করেছি রে লক্ষী!






তোর মুখে আওয়াজ নেই, কিন্তু আমার শত্রুও বোবা বলবে না তোকে। তুই যখনই পারিস্ উঁকি দিয়েছিস। বলেছিস্ তোর অভিমানী ফোলানো ঠোঁট আর তুলতুলে আঙুল তুলে, ছিঁড়ে খুঁড়ে ফালা ফালা করেছিস্ আমার দিনের শান্তি, রাতের ঘুম।






অবহেলা? এত করেও পারিনি। তীব্র পিঠ ব্যথায়, অফিসে সদা সতর্ক চাকরি হারাই হারাই ভয়ের মধ্যেও, ট্রামের দুর্গন্ধওয়ালা ভারতীয় ছেলেটার বগলের কটু গন্ধের কদর্যতায়, কিংবা সকালের দাঁত মাজার ছোট্ট অবকাশেও একটু করে চড়ুই পাখির মত দেখা দিয়েই তুই ফুড়ুত!! তুই জানিয়ে গেছিস্, তুই খুব মিষ্টি আর খুব প্রার্থিত একজনা, কিন্তু তুই অধরা।






মা ফোন করেছিলো সেদিন, ভাবতে পারিস্? কত্তদিন পর!! তোর কথা জিজ্ঞেস করলো। আমি বেভুল হয়ে এমন ভাবে রিশের কথা বলছিলাম, থতমত খেয়ে গেলাম। খুব লজ্জা পেলাম, জানিস? তুই, যে আমার সবচে' আপনার জন, আমার নিশীথ রাতের বাদলধারা, বেমালুম ভুল মেরে দিয়েছিলাম ক'মুহুর্তের জন্য। আমার ওপর তোর অভিমান তখন থেকেই শুরু তাইনা?






আচ্ছা বাবু, তোকে বেড়াতে নিয়ে যাই চল্ বোট্যানিক্যাল গার্ডেনে। ওই যে ঘনঘোর বর্ষার ওই দিনটা, আমি আমার প্রিয় কানবাজনা টা নিয়ে ছাতা বগলে চলে গেলাম আর ঝুম বৃষ্টির মধ্যেই ফার্নের সারি আর বুনো স্বাদের টক টক পাতা গুলো চিবুতে চিবুতে --উফ্ দারুণ একটা আ্যডভেঞ্চার হলো তোতে আর আমাতে। সেদিনটায় কিন্তু আমি একবারও তোর কাছ ছেড়ে যাইনি, বল্? কেমন কেমন করে আমাদের দু'জনের রাগ অভিমান সব গ-লে জল হয়ে গেলো, কালো রাজহাঁস গুলোকে রুটি খাইয়ে আর ওই বীভৎস কালো মাগুর মাছ গুলোকে জলের নীচে খোঁচাখুঁচি করেই হি হি হি। সেদিন তোর হাসিটা এত্তো মিষ্টি ছিলো, এত্তো মিষ্টি .. ইচ্ছে হচ্ছিলো টপাস্ করে জড়িয়ে ধরে তোকে একটা চুমো খাই। এটুক শুনেই চোখ গোল করলি? সত্যি সোনা, তোকে আমর আদর লাগে, সব সময়, সারাটা ক্ষণ। তুই আমার কাছ থেকে দূরে চলে গেছিস বলেই ভাবিস না রিশ্ আমার সবটুকু নিয়ে নিয়েছে,চেষ্টা করেছে হয়তো, কিন্তু চুপিচুপি জানিয়ে রাখি তোকে ...পারেনি ।।


নিতে পারেনি।।


পরাণের গহীন ভিতর - তুই ই ছিলিস, তুই ই আছিস।






আমার নিষিদ্ধ সুখের মতো, আমার দুপুরবেলায় স্কুল পালিয়ে ছাদে গিয়ে সারি করা আচারে বয়ামের ভেতর জিভ ডুবিয়ে দেবার মতন, যখন রিশের চোখ এড়িয়ে বাথরুমের সুগন্ধী বাথটাবে বুদবুদের ভেতর আমি উজ্জ্বল একঝাঁক পায়রা খুঁজি, শীর্ষসুখের অতল স্পর্শ করে আমায়, আমি তোকে খুঁজে পাই। তুই না হলে শ্বাস নেবার কষ্ট হয় তো আমার, দম আটকানো খাঁচা বন্দি পাখি হয়ে যাচ্ছি দেখতে পাচ্ছিস্ না? ভাগ্যিস তুই ছিলি সোনা, নইলে আমি মরেই যেতাম।






তুই বার বার রাগ করে পালিয়ে চলে যাস্, এবার তো ভেবেছিলাম আর ফিরেই আসবিনা, তারপরও অদম্য একটা ইচ্ছে কেন ছটফট করে ভেতরে, তোকে জাপটে ধরে রাখি, কিছুতেই যেন তুই ছুটতে না পারিস্, তোকে হাতপা বেঁধে আঁকড়ে ধরে গুনে গুনে পঞ্চাশটা হামি দেবো, তোকে সাথে নিয়ে ড্যানডেনং পাহাড়ের চূড়োয় যাব (না, যাইনি, রিশ্ কে নিয়ে সত্যিই যাইনি, হিংসে করিস না ভূত কোথাকার!) ও ই শিশির মাখা টুকটুকে লাল ফুলটা পাঁপড়ি মেলে শুধুই যে পাহাড়ের হিমের আদরে, হ্যাঁ, শুধু তোকে দেব সোনা, লক্ষী মানিক আমার, শুধু তোকে, সুন্টুনি মুন্টুনি। রাগ করিস্ না আর মুখ ফিরিয়ে থাকিস্ না। অনেক পাওয়ার মাঝেও আমার সবচে' বড় না পাওয়া হয়ে যাস্ না তুই।






ভয় পাস্ না: রিশ্ কে নেবোনা; দেখিস্ তুই, যেভাবেই হোক্ ওর চোখ ফাঁকি দেবোই আমি এবার। শুধু তুই আর আমি নিশ্চিন্দিপুর ... অনেক দূর ...






কবিতা আমার, লেখা আমার, ফিরে আয় সোনা, প্লীজ.




ss ১৭ই মে,২০০৮: দুপুর ১টা ৫৯মি